রোহিঙ্গাদের কীভাবে সিম দেওয়া যায় তা যাচাই-বাছাই চলছে : মন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। পরও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেশের মোবাইল ফোনের সিমের পাশাপাশি মিয়ানমারের অপারেটরদের সিম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির একটি প্রতিনিধি দল।
পরির্দশনের সময় সেখানে অসংখ্য রোহিঙ্গার হাতে থাকা মোবাইল ফোনে বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমারের অপারেটরদের সিম বেশুমার ব্যবহারের নজির পেয়েছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্প এলাকায় মিয়ানমারের মোবাইল সিম ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার বন্ধের জন্য এরই মধ্যে উপায় খোঁজা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশি মোবাইল সিমগুলোর (যেসব সিম ব্যবহার হচ্ছে) বিষয়েও সেগুলো কিভাবে বৈধতা দেয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে গভীর ভাবে চুল-চেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ডিজিবাংলাকে বলেছেন, শুধু আমরা নই বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দেখছে। যেহেতু সীমান্তটা ছোট নয় এবং মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক বেশ শক্ত। সে জন্য জ্যামার ব্যবহারে আপাতত কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। তাই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি মোবাইল সিম দেওয়া হবে কিনা, বিষয়টি এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদেরকে কিসের ভিত্তিতে এবং কীভাবে সিম দেওয়া যায় তা যাচাই-বাছাই শেষে যে সুপারিশ আসবে, সেই মোতাবেক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সিম দেওয়ার আগে অনেকগুলো বিষয় আমাদের ভেবে দেখতে হবে। কারণ, আমরা নিবন্ধন ছাড়া সিম চালু করবো না। তাহলে তাদের সিম কীভাবে নিবন্ধন হবে, সেই বিষয়টি ভাবতে হবে। কতগুলো সিম দেওয়া যাবে, কারা সিম পাবে, কত বছর বয়স হলে সিম কিনতে পারবে, ব্যক্তিগতভাবে নাকি পারিবারিকভাবে দেওয়া হবে, সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তারপর রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়ার বিষয়টি আসবে।
অভিযোগ রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কয়েক লাখ সিম ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা, এমন অভিযোগ বিগত বছরগুলোর। এ ছাড়া দেশীয় একাধিক মোবাইল ফোন অপারেটরের বিরুদ্ধে ক্যাম্প এলাকায় সিম বিক্রি অভিযোগও রয়েছে। মোবাইল দেশীয় মোবাইল সিমের পাশাপাশি মিয়ানমারের মোবাইল সিমও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেদার ব্যবহার হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পারস্পরিক যোগাযোগে সহযোগিতা করতে এক ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পে মোবাইল ফোনে ফ্রিতে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টেলিটকের বুথ উদ্বোধন করা হয়। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, হাকিমপাড়া, পালংখালী ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ক্যাম্পে টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে ১০টি বুথ চালু করে টেলিটক। ২০১৯ সালের সেপ্টম্বরে বিটিআরসি জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল অপারেটরগুলোর টু-জি সেবা সার্ভিস সবসময় চালু থাকবে।